এক নজরে শ্যামনগর উপজেলা

উপজেলার নামকরণ

পৃথিবীশ্রেষ্ট সমৃদ্ধশালী জমিনের শ্যামলিমায় ভরপুর নদীমাতৃক বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে নৈসর্গিক দৃশ্যের লীলাভূমি সুন্দর বন সংলগ্ন শ্যামনগর উপজেলার সৃষ্টি ১৮৯৭ সালে বৃটিশ আমলে।

কথিত আছে রাজা প্রতাপাদিত্যার পুত্র উদয় আদিত্য তার রাজধানী মুঘল সৈন্যদের আক্রমন হতে রক্ষার নিমিত্তে মাটির দীর্ঘ গড় নির্মান করেন। উক্ত মাটির নির্মিত গড়কে সৈনদের সতর্কীকরণ গড় হিসেবে চিহ্নিত ছিল।

সামনে গড় কথাতি রুপান্তরিত হয়ে শ্যামনগর ধারণ করেই এ উপজেলার নাম শ্যামনগর হয়।

উপজেলার পটভূমি

শ্যামনগর উপজেলাটি ১৯০৩ বর্গ কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট। যার মূল ভূখন্ড ৪৫৫ বর্গ কিলোমিটার এবং সুন্দরবন ১৪৪৮ বর্গ কিলমিটার।

বাংলাদেশের শেষ প্রান্তের সাগর কূলের জনপদ শ্যামনগর, দক্ষিন-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত। এলাকার উৎপত্তি ঘটে পলি অবক্ষেপনের মাধ্যমে। পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট সুন্দরবন সংলগ্ন বর্তমান শ্যামনগর উপজেলাটির প্রাক ঐতিহাসিক কাল থেকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর মোহনায় ব-দ্বীপের মধ্যে অবস্থান করছে।

শ্যামনগর কালের সাক্ষী হয়ে আছে তার পুরাকীর্তি আর ঐতিহ্যকে বুকে ধারন করে। মহাকালের নিরিখে শ্যামনগর দীর্ঘ সময়ের মহিরুহ নয় তবে শ্যামনগরের এই তটভূমি ইতিহাসের আগের ম্মৃতিকে বহন করে চলেছে।

‘‘সম্ভবত খ্রীষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে অর্থাৎ গ্রীক বীর আলেকজান্ডার যখন ভারত আক্রমন করেন, তখন গঙ্গা ও তার শাখা নদীর মোহনায় গঙ্গারিতা নামে যে রাজ্য ছিল তা পৌন্ড্রক্ষত্রিয় জাতির। এরা আর্যদের দ্বারা পরাজিত ও বিতাড়িত হয়ে পৌন্ড্রনগরী ত্যাগ করে এই নগরী গড়েতুলেছিল।

গঙ্গা ও তার শাখা নদী সমূহের এই সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলটি পৌন্ড্রবর্দ্ধন ভূমির অন্তর্গত ছিল, গুপ্ত যুগের পর পাল ও সেন যুগের ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়।

বাংলার বার ভূঁইয়াদের অন্যতম মহারাজ প্রতাপাদিত্য এর স্মৃতি বিজড়িত শ্যামনগর-এর নামকরণের ইতিহাস অতি বৈচিত্রপূর্ণ। কথিত আছে মহারাজ প্রতাপাদিত্যের পুত্র উদয়াদিত্য সুবেদার ইসলাম খাঁন দ্বারা পরিচালিত মুঘল সৈন্যদের আক্রমণ থেকে তাঁর যশোহর রাজ্যের রাজধানীকে রক্ষার্থে একটি খাল খনন করেন।

কালের অমোঘ নিয়মে বিশাল মুঘল বাহিনীর সাথে প্রতাপাদিত্যের যুদ্ধ বাঁধে। মুঘল বাহিনী তাঁর রাজধানী আক্রমনের জন্য দুর্বারবেগে এগিয়ে আসে। এমন সময় অগ্রসরমান সৈন্যরা প্রতিরোধ খাল দেখে পশ্চাৎপদ সৈন্যদের সতর্ক সংকেত হিসেবে তাঁরা খালের সম্মুখে ‘শ্যামনি গর’ বলে চিৎকার করেন। পরবর্তী সময়ে ‘শ্যামনি’ ও ‘গর’ সহযোগে ‘শ্যামনগর’ নামের উৎপত্তি বলে অনেকের ধারণা।

অন্যমতে শ্যামনগরের আদি অধিবাসিরা ছিল মহাভারতীয় যুগের মানুষদের বংশধর। শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন তাদের আরাধ্য দেবতা। শ্রীকৃষ্ণের শতাধিক নামের মধ্যে শ্যাম, গোপাল, গোবিন্দ, গোকুল, গোপী প্রভৃতি নামগুলো অধিক পরিচিত ও প্রচলিত। একালের মতন সেকালেও ছেলে মেয়ে ও গ্রামগঞ্জের নাম দেবদেবী ও অবতারদের নামে নামকরণ করার নিয়ম প্রচলিত ছিল।

সম্ভবত এখানকার আদিম অধিবাসীরা তাঁদের প্রিয় দেবতা শ্রীকৃষ্ণের ‘শ্যাম’ নামানুসারে তাঁদের বসবাসের এলাকারটির নাম ‘শ্যামনগর’ রেখেছিলেন।

অন্যমতে ইংরেজ আমলে প্রথমে এখানে একটি ফাঁড়ি ছিল। পরবর্তীতে ফাঁড়িটিকে থানায় উন্নীত করার সময় শ্যামসুন্দর নামক একজন ভদ্রলোক প্রয়োজনীয় গৃহাদি নির্মাণের জন্য একখন্ড জমি ইংরেজ সরকারকে দান করেন। সেই থেকে স্থানটির নাম দাতার নামানুসারে ‘শ্যামনগর’ হয়েছে।

সহযোগী প্রতিষ্ঠান